CareerAidBD

Career Aid in Bangladesh

অনুপ্রেরণা-৩৩ তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসনে ১ম হওয়ার গল্প

২০১০ সালে রুয়েট থেকে বের হলাম। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা ছিল না অতটা।অন্য রকম ইচ্ছা ছিল।পরীক্ষার আগে অসুস্থতা যার সঙ্গী সবসময়,তার পক্ষে অনেক কিছু করাটা কঠিন হয়ে যায়।যা হোক, গায়ে ইঞ্জিনিয়ার তকমাটা লেগে গেল। কিছুদিন পর জয়েন করেছিলাম একটা প্রাইভেট ফার্মে। মন ভরছিল না কেন জানি না। কিন্তু না, কিছুদিন যেতেই হাঁপিয়ে ওঠা আমাকে খুব হতাশ করেছিল। মন চাচ্ছিল কিছু ভিন্ন যেখানে হয়ত কাজটা অন্য রকম হবে। দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছিলাম, কিন্তু বিধিবাম,গুরুজনের অনুরোধ আমাকে বিসিএস পরীক্ষা দিতেই হবে।আমার মা চেয়েছিলেন যেন আমি প্রশাসন ক্যাডার পাই। কি আর করা, এই বিশাল টাইপের বইগুলি বসতেই হল। বাংলা আর International affairs দেখে মোটামুটি আমি হতাশ ছিলাম। কিন্তু কি আর করা, রক্তে ছিল নিজেকে জানার ইচ্ছে, নিজেকে অতিক্রম করার ইচ্ছে। কিছুদিন বেকার ছিলাম। তখন বেকার থাকার একটা মজা খুঁজে পেয়েছিলাম। কমপক্ষে কারো কাছে ক্যারিয়ার নিয়ে কোন কথা শুনতে হত না। কি কর? কিছু না। আচ্ছা বাবা কিছু করার চেষ্টা কর…… এর বেশি না।

কিন্তু জব করলেই কি কর? কেন কর? অন্য কোথাও ট্রাই কেন করি না? উফফ বিরক্ত লাগত। যাই হোক কষ্ট লাগলেও প্রস্তুতি নিতে থাকলাম। কাজের চাপ,আমার অন্যান্য পড়াশোনা, দেশের বাহিরে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি, রিসার্চ পেপারের কাজ,আর সাথে বিসিএস এর প্রস্তুতি।কি যে কঠিন দিনগুলো গেছে আমার তা আমি আর আমার ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ জানে না.৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সময় পাই নাই।গাড়িতে বসেও পড়েছি কাজের ফাঁকে ফাকে। কিন্তু বিধি হয়ত বাম ছিল। প্রিলি এক্সামের আগের দিন জ্বর ছিল। ছিল।পরীক্ষার আগে অসুস্থতা যার সঙ্গী সবসময় ;জ্বর নিয়েই এক্সাম হলে গেলাম। দিলাম হয়েও গেল। কিন্তু কিভাবে বুঝলাম না। কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম, যে কষ্ট করলে God ভাল কিছু না দিয়ে পারেন না। রিটেন নিয়ে বসে যে সমস্যা দেখলাম, তা হল বাংলা ও International affairs নিয়ে। যদিও সাহিত্য নিয়ে আমার অনেক আগ্রহ আছে, এবং গল্পের বই পড়া আমার নেশা। কিন্তু মুখস্ত করাটা ছিল বিভীষিকার মত। চালিয়ে গেলাম। কিন্তু বিধি আবারো বাম। একদিনে দুই এক্সাম দিতে হত। আর সাথে জ্বর বাবাজি আমাকে আবার পেয়ে বসল। এক্সাম গুলি দিয়ে মনে হয়েছিল আমাকে দিয়ে হবে না বিসিএস। কিন্তু মনে হয় দুর্ভাগ্যবশত টিকে গেলাম!!!! হা হা হা। কিন্তু ভাইভা, এখন কি হবে!!! সবাইকে দেখলাম বিভিন্ন কোচিং এ দৌড়াতে। কিন্তু আমার তো আর অতো সময় নেই।আমি ভাবলাম যা হওয়ার তাই হবে। ভাইভা দিলাম, খুব একটা বেশি সময় আমাকে আটকে রাখে নি বা আমি নিজেও খুব যে চিন্তিত ছিলাম তাও না। জিজ্ঞেস করেছিল, ইঞ্জিনিয়ার হয়েও বিসিএসে আসবে?থাকবে তো? আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে বলেছিলাম হ্যাঁ স্যার কেন নয়, এমন একটা সুযোগ যদি পাই, সবার সেবা করার কেন নয়? রিটেন এর যা অবস্থা ছিল, খুব একটা আশাবাদী ছিলাম না। কিন্তু রেসাল্টের দিন যা দেখলাম তা দেখে আমার নিজের চোখকে নিজেই বিশ্বাস হচ্ছিল না।

পরে বুঝলাম, হ্যাঁ আমি পেরেছি, এডমিনে ১ম, আর সম্মিলিত মেধায় ৫ম। হয়ত চোখের কোণে একটু জল এসেছিল, কিছু অবহেলা, কিছু ছেড়ে যাওয়া, আবার কিছু নতুন করে পাওয়া এইতো…… আমি স্টিভ জবসের একটা কথা মনে করলাম,sometimes life’s going to hit you in the head with a brick, don’t lose faith. হ্যাঁ চাকরি টা ছেড়ে এসে এমনটাই মনে হয়েছিল, ভুল করলাম না তো? অনেক আশা নিয়ে যাবেন এক্সাম দিতে। ভয় পাবেন কেন? এক জন বিখ্যাত ব্যক্তির কথা,You can’t connect the dots looking forward; you can only connect them looking backward. So you have to trust that the dots will somehow connect in your future. You have to trust in something — your gut, destiny, life, karma, whatever. This approach has never let me down, and it has made all the difference in my life.

তাই,ভাবুন কোন কষ্ট আজকে আপনাকে এখানে এনেছে, যুদ্ধের ময়দানে কখনো প্রতিযোগী পক্ষ কে দেখে ভয় পেলে হয় না। নিজের সেরাটা দিন। দুইটা ঘন্টার জন্য। হয়ত এই দুই ঘণ্টা দুই লক্ষাধিক থেকে আপনাকে প্রথম ২০০০ নিয়ে আসার জন্য প্রথম পদক্ষেপ। অনেকেই প্রথমবার এক্সাম দিতে যাচ্ছেন, ভয় পাবেন না, অভিজ্ঞতা তারুণ্যের চেয়ে বেশি কিছু মনে হলে এটা কেন ভাববেন না কবি তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন। বিচার করুন, ভাবুন, চিন্তা করুন কিন্তু অযথা চিন্তা করবেন না। এগিয়ে যান, মঞ্চ আপনার জন্যই সাজানো আছে। এখন আর নতুন করে কোন কিছু শিখতে হবে না। একটা বুদ্ধি দিতে পারি, মুভি দেখতে পারেন। কাজে লাগবে, টেনশন ফ্রি থাকার জন্য। আমি এই কাজটি করেছি। তবে হ্যাঁ একান্ত আমার মতামত দিচ্ছি। সবার কাছে গ্রহন যোগ্য মনে নাও হতে পারে। প্রিলি এক্সামকে অনেকেই লটারী বলে থাকে। কপালে থাকলে কে ঠেকাবে। প্লিয একটু থামুন। এটা এক্সাম, লটারী না। এক্সাম হলে যাবেন ফুল কনফিডেন্স নিয়ে। মনে রাখবেন ১৩৫ হল সবচেয়ে নিরাপদ স্কোর। কাট মার্ক নিয়ে কথা বেশি বলে লাভ নেই। সর্বনিন্ম মার্ক নিয়ে পাস করবেন এই চিন্তা বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ নিয়েই পাস করবেন, এটা ভাবাটাই ভাল। মোহাম্মদ আলী একটা কথা বলেছেন, স্টেজে আমি কেমন করব, এটা নির্ভর করে স্টেজে যাওয়ার আগে আমি কি ভাবি স্টেজ সম্পর্কে। তাই ভাল ভাবতে চেস্টা করুন। আর কোন অংশ আগে ধরবেন? যেটা ভাল পারবেন এক্সাম হলে সেটাই ধরবেন। এত ভাববেন না। যদি কোন প্রশ্ন বাদ দিয়ে যান,, সেটা আপনি যতগুলি প্রশ্নের উত্তর পারেন সেগুলি উত্তর দিয়ে এরপর আবার ধরবেন। এর আগে না।

I am saying. It really helps to be a winner.

 

You were born with potential. You were born with goodness and trust. You were born with ideals and dreams. You were born with greatness. You were born with wings. You are not meant for crawling, so don’t. You have wings. Learn to use them and fly. দেখা হবে বিজয়ে ………………।

অভিজিৎ বসাক ৩৩ তম বিসিএস সম্মিলিত মেধায় ৫ম, এডমিনে ১ম ।

লেখাটা লিখলাম, জানিনা কেমন হল। তবে হ্যাঁ, এখন থেকে নিয়মিত কিছুটা সময় বের করব লেখার জন্য।

লিখেছেনঃ অভিজিৎ বাসাক

১০ দিনে প্রিলি. প্রস্তুতি! সুশান্ত পাল

Write a Comment

Leave a Reply

CareerAidBD © 2018